শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ইউক্রেনীয় ও রুশ সেনাদের লড়াইয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনাদের গোলা বিনিময়ের ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি আত্মহত্যার সামিল। তার কথাতে সুর মিলিয়েছেন ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে সফরে আসা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জা নিয়ে ইউক্রেনীয় ও রুশ সেনাদের লড়াইয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জাপোরিজ্জা নিয়ে যেকোনো সম্ভাব্য ক্ষতি আত্মহত্যার সামিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব ইউক্রেন সফরে এসে লেভিভে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনাদের গোলা বিনিময়ের ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রুশ অভিযান শুরুর পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও প্রথমবারের মতো ইউক্রেন সফর করছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টও জাতিসংঘ প্রধানের সুরেই কথা বলেছেন। তিনি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আরেকটি চেরনোবিল বিপর্যয়ের বিপদ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে সোভিয়েত আমলে এক পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পারমাণবিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর ২০ বছরে তেজস্ক্রিয়তার পরোক্ষ প্রভাবে প্রায় ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

তিন নেতাই রাশিয়ার প্রতি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অঞ্চলকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি ইচ্ছাকৃতভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলার সমালোচনা করেন।

তবে রাশিয়া বলছে ইউক্রেনের হামলাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে হুমকিতে ফেলছে।

গত ১১ আগস্ট জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছিলেন, কিয়েভের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বিশ্বকে বড় পারমাণবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি সে সময় বলেন, ‘আমরা বারবার আমাদের পশ্চিমা সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছি যে, তারা কিয়েভের সঙ্গে কথা বলতে ব্যর্থ হলে এটি সবচেয়ে জঘন্য ও বেপরোয়া পদক্ষেপ নেবে, যার পরিণতি ইউক্রেনের বাইরেও পড়বে।’

ভ্যাসিলি এ সময় পশ্চিমাদের উদ্দেশে বলেন, যেকোনো পারমাণবিক বিপর্যয়ের জন্য কিয়েভের পশ্চিমা সমর্থকদেরই দায় বহন করতে হবে।

তার মতে, পারমাণবিক অবকাঠামোতে কিয়েভের অপরাধমূলক আক্রমণ বিশ্বকে একটি পারমাণবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে, যা চেরনোবিলের মতো ঘটনার জন্ম দেবে এবং ইউরোপকে সবচেয়ে বড় তেজস্ক্রিয় দূষণের দিকে নিয়ে যাবে। এর প্রভাব রাজধানী কিয়েভসহ অন্তত আটটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ ছাড়া লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক ছাড়াও মলদোভা, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও বেলারুশেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনীয় শহর এনারগোদারে অবস্থিত জাপোরিজ্জা প্ল্যান্টটি গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে।

চীন সমস্যা সমাধানে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির জন্য রাশিয়াকেই দায়ী করছে।

গত ৬ আগস্ট ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়ার রকেট হামলায় পারমাণবিক স্থাপনার গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তিনটি তেজস্ক্রিয় শনাক্তকরণ যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যেকোনো তেজস্ক্রিয় লিকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় তা শনাক্তকরণ ও বিকিরণ প্রতিরোধ অসম্ভব হয়ে গেছে।

কিয়েভ বলছে, এবার ভাগ্যক্রমে পারমাণবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও বার বার ভাগ্য সহায়ক হবে না।

জাতিসংঘের আণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইএইএ) ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

জাপোরিজ্জায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রুশ প্রধান ইয়েভজেনি বালিতস্কি রোবরার টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে নিরপেক্ষভাবে কিয়েভ ও মস্কোর দাবির সত্যতাই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

যেহেতু পারমাণবিক প্রকল্পটি রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং সেখানে রুশ সেনারাই অবস্থান করছে, তাহলে ঠিক কী কারণে রুশ সেনারাই সেখানে হামলা চালাবে তা স্পষ্ট করেনি কিয়েভ।

গত মার্চে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটিতে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিজ্জাতে হামলা চালায় রুশ সেনারা। ইউক্রেন সে সময় দাবি করে, রুশ গোলার আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা জানিয়েছিলেন, এই কেন্দ্রের চুল্লি গলে যাওয়া চেরনোবিলের থেকে ১০ গুণ বেশি ভয়াবহ হতে পারে।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION